দেশে কার্যক্রম চালু করতে চায় ১৪টি বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।

  • প্রকাশঃ বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১
  • ৭১ বার দেখা হয়েছে
poralekha24.com

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার পর বাংলাদেশেও বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিদেশি একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘স্টাডি সেন্টার’ চালুর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আরও দুটির বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আর মোট আবেদন জমা পড়েছে ১৪টি।

শিক্ষাবিদেরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, বিশ্বায়নের এই যুগে পর্যাপ্ত যাচাই–বাছাই করে খ্যাতি আছে এমন কয়েকটি নামকরা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু মানের ক্ষেত্রে কোনোরকম আপস করা যাবে না। এ জন্য সেগুলোও নিয়মিত তদারকির মধ্যে যেমন রাখতে হবে, তেমনি যেনতেন কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম যেন চালু হতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। না হলে উচ্চশিক্ষার নামে সনদ-বাণিজ্যের আশঙ্কা আছে। তাঁরা আরও স্মরণ করে দেন, বর্তমানে দেশে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়া হলেও কিছুসংখ্যক বাদে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি আছে নানা ধরনের অভিযোগ। আবার কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খুব ভালোও করছে। তাই এসব ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসিকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় অনুমোদন ছাড়াই বাংলাদেশে অবৈধভাবে বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছিল। তখন প্রায় ৫৬টি বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিল ইউজিসি। কারণ, এগুলো ছিল মূলত সনদনির্ভর প্রতিষ্ঠান। একপর্যায়ে অনুমোদন নিয়ে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে এ রকম একটি সুযোগ রাখা হয়। এরপর ২০১৪ সালের ৩১ মে ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা’ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ওই বিধিমালায় বলা হয়, বিভিন্ন শর্তে বাংলাদেশে স্থাপন করা যাবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার। দেশি ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে যৌথ ক্যাম্পাসও চালুর সুযোগ রয়েছে এই বিধিমালায়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, বিধিমালার পর ১৪টি বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ দেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আবেদন করে। এ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামেই মূলত এই আবেদনগুলো করা হয়। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মনাশ কলেজের স্টাডি সেন্টারের জন্য আবেদন করে এডুকো বাংলাদেশ লিমিটেড। এডুকো প্রস্তাবিত এলাকা দিয়েছে বসুন্ধরায়। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বের স্টাডি সেন্টার করার জন্য আবেদন করে বিএসি ইন্টারন্যাশনাল। তারা প্রস্তাবিত ঠিকানা দিয়েছে ধানমন্ডি। গুলশান-২ এলাকার জন্য লন্ডন স্কুল অব কমার্সের স্টাডি সেন্টারের আবেদন করেছে এশিয়ান সেন্টার ফর ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া বিভিন্ন বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আবেদনকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ভূঁইয়া একাডেমি, হিকমা লিমিটেড, এনইউবি ইন্টারন্যাশনাল স্টাডি সেন্টার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি, ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্টাডি সেন্টার, বিএসবি ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ইনসাইট ইনস্টিটিউট অব লার্নিং লিমিটেড, এশিয়া ইউনিভার্সিটি স্টাডি সেন্টার ইন বাংলাদেশ, লিংকন ইউনিভার্সিটি কলেজ, মাশা ইউনিভার্সিটি (মালয়েশিয়া) স্টাডি সেন্টার। এর মধ্যে অবশ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত।

খবরটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
© ২০২০-২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । © পড়ালেখা২৪.কম
Design & Developed By NewsTheme.Com